
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন সরকারের অধীনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক একেবারে শূন্য থেকে শুরু হচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু সমাধান এবং দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আস্থা ফিরিয়ে আনতে ‘ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে’ (slowly but surely) এগোনোর কোনো বিকল্প নেই। তিনি এটিকে ‘ধৈর্যশীল আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার’ প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আরও পড়ুন:
সাক্ষাৎকারটি মরিশাসে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় নেওয়া হয়। এটি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রথম সাক্ষাৎকার। এর আগে তিনি নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, “দুই প্রতিবেশী এখন কথা বলতে, উদ্যোগ নিতে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ইচ্ছুক।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের জন্য উভয় পক্ষের প্রচেষ্টা চলছে। তবে “আত্মবিশ্বাস ধাপে ধাপে গড়ে তোলার জন্য ধৈর্য প্রয়োজন, তাড়াহুড়ো করে কিছু করা যাবে না।”
আরও পড়ুন:
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক, সভ্যতাগত ও মানুষে মানুষে গভীর বন্ধন রয়েছে। গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি (১৯৯৬) পুনর্বিবেচনার সময় ঘনিয়ে আসছে। এই ইস্যুসহ জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে তিনি সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। “পানি সীমিত। গঙ্গা মানে জীবন,” বলে তিনি মন্তব্য করেন। দুই দেশের মানুষ একই ধরনের জলবায়ু সংকটের সম্মুখীন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘জিরো-সাম গেম’ নয়। চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিযোগিতা নয়। বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা বাজারের নিয়মে হয়, কৌশলগত নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পূরকতা, সীমান্ত সংযোগ এবং যৌথ অবকাঠামো মানুষের কাছে দৃশ্যমান সুবিধা পৌঁছে দেবে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং এনডিটিভি সাক্ষাৎকারকে কূটনৈতিক মহল এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি জ্বালানি সহযোগিতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করছে। তিনি সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন এবং ভারত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্নির্মাণের এই ‘ধীরগতির কিন্তু নিশ্চিত’ পথ দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।






