
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—ইরানি জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ‘আমেরিকান মাছ’ (American Fish) জীবন্ত ধরা পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই খবরটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। আমাদের ফ্যাক্ট-চেক টিমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এর আসল সত্য।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল দাবির প্রেক্ষাপট
ফেসবুক এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্র থেকে জাল তোলার পর সেখানে বিশেষ এক প্রজাতির মাছ কিলবিল করছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো আমেরিকার পাঠানো কোনো বিশেষ মাছ বা ড্রোন-চালিত কৃত্রিম মাছ, যা ইরানের জলসীমায় গুপ্তচরবৃত্তির জন্য পাঠানো হয়েছিল।
তথ্য যাচাই: এটি কি সত্যিই আমেরিকান মাছ?
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘আমেরিকান মাছ’ ধরা পড়ার এই দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
আরও পড়ুন:
১. প্রাকৃতিক মাছের প্রজাতি: ভিডিওতে যে মাছগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত সামুদ্রিক ‘রকফিশ’ (Rockfish) বা এই জাতীয় কোনো সাধারণ প্রজাতি। সম্প্রতি আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে মাছের বংশবৃদ্ধি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা ভুলভাবে ইরানের প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হচ্ছে।
২. কোনো সামরিক সংযোগ নেই: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সামরিক উত্তেজনা (অপারেশন এপিক ফিউরি ২০২৬) চললেও, মাছের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো স্বীকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
৩. পুরানো ভিডিওর ব্যবহার: ভাইরাল হওয়া ভিডিওর অনেকগুলোই আসলে কয়েক বছর আগের অথবা অন্য কোনো দেশের (যেমন- কুয়েত বা ওমান) মৎস্য আহরণের দৃশ্য, যা এখন নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সতর্কতা: যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের অনেক ‘ডিপফেক’ বা ‘এআই জেনারেটেড’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া এ ধরনের খবর শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
ইরানি জালে আমেরিকান মাছ ধরা পড়ার খবরটি একটি প্রযুক্তিগত গুজব মাত্র। এটি মূলত সাধারণ মাছ ধরার ভিডিওকে রাজনৈতিক রং চড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে। আপনার নিউজ পোর্টালের পাঠকদের সঠিক তথ্য জানাতে এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।








