
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ না করবে, ততক্ষণ এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। এই চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে ইরান এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বড় ধরনের যৌথ হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শত্রুপক্ষের পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আমাদের অভিযান থামবে না।” তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর হামলা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন:
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা আইআরজিসি-র এই ঘোষণার পরপরই উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি এবং হাইফা অঞ্চলে ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। লেবানন সীমান্ত থেকে কয়েক ডজন ‘খাইবার’ এবং ‘ফাত্তাহ’ মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইরান থেকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটিগুলোতে লক্ষ্যভেদী হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের পরিস্থিতি হামলার পর উত্তর ইসরায়েল জুড়ে সতর্কতা সংকেত (Sirens) বাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ বেশ কিছু মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বেশ কিছু স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আইডিএফ পাল্টা জবাবে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
আঞ্চলিক উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত আক্রমণ যুদ্ধের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আইআরজিসি-র ‘আত্মসমর্পণ’ করার দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ বর্তমানে প্রায় রুদ্ধ। বিশ্বনেতারা এই পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েল এই হামলার বিষয়ে এখনো কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডাকা হয়েছে।








