
নিজস্ব প্রতিবেদন | ১০ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স। দীর্ঘ উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইরান তার অবস্থানে অনড়। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতির জন্য তেহরানের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো— ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো প্রকার আগ্রাসন চালানো যাবে না।
আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে। ওইদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি ভয়াবহ যৌথ হামলা চালায়। এই হামলার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আঘাত শুরু করে। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরান ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। দেশগুলো ইরানের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করছে। ইরানের দাবি, তারা কেবল আত্মরক্ষার খাতিরে লড়ছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এই লড়াই খুব শিগগিরই বন্ধ হবে। সম্ভবত আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা বড় কোনো পরিবর্তনের খবর পাবো।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে হয়তো কোনো সমঝোতার পথ তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আল জাজিরার তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে পশ্চিমা শক্তিগুলো ইসরায়েলকে সমর্থন দিলেও অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিগুলো সরাসরি ইরানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের দেওয়া শর্ত মেনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলা বন্ধ করে কি না।








