
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় NATO মিত্রদের সতর্ক করে বলেছেন, স্ট্রেইট অফ হরমুজ নিরাপত্তায় সাহায্য না করলে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হবে। ইতিমধ্যে জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, স্পেনসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ ট্রাম্পের নৌ অভিযানে অংশ নিতে স্পষ্ট অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন:
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যারা প্রণালীর উপকারভোগী তারা নিশ্চিত করবে যাতে কোনো খারাপ ঘটনা না ঘটে। যদি কোনো সাড়া না আসে বা নেগেটিভ হয়, তাহলে আমার মনে হয় ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে।” তিনি মাইনসুইপারসহ নৌ সম্পদ চেয়েছেন এবং বলেছেন, “যা লাগে তাই”। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ চীনকেও সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে বা ব্লক করার হুমকি দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে যায়। ট্রাম্প চান একটি আন্তর্জাতিক নৌ কোয়ালিশন গড়ে তোলা হোক যাতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
আরও পড়ুন:
ইউরোপীয় দেশগুলোর স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান:
জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস সরাসরি বলেছেন, “এটা আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা শুরু করিনি। ইউরোপীয় কয়েকটা ফ্রিগেট দিয়ে কী করবে যা মার্কিন নৌবাহিনী একা পারবে না?” জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের মুখপাত্র বলেন, “এই যুদ্ধের সঙ্গে NATO-এর কোনো সম্পর্ক নেই। NATO একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, এর এখানে কোনো ম্যান্ডেট নেই।”
গ্রিসের সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, “হরমুজে কোনো সামরিক অভিযানে গ্রিস অংশ নেবে না।” ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি বলেন, “কূটনীতি প্রাধান্য পাবে।” স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও একই সুরে জানিয়েছেন যে তারা কোনো অস্থায়ী ব্যবস্থায় যাবেন না।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এটি NATO-এর মিশন হবে না এবং যুক্তরাজ্য বৃহত্তর যুদ্ধে জড়াবে না। তবে তেলের স্থিতিশীলতার জন্য “কার্যকর পরিকল্পনা” নিয়ে আলোচনা চলছে। ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস জানিয়েছেন, রেড সি-এর অ্যাসপাইডস মিশন হরমুজ পর্যন্ত বাড়ানোর কোনো আগ্রহ নেই।
আরও পড়ুন:
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া:
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি তার পুরনো NATO-বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করেছে, এবার মিত্রদের পালা। কিন্তু ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং NATO-এর এখানে ভূমিকা নেই। অনেকে কূটনৈতিক সমাধান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা NATO-এর মধ্যে নতুন করে ফাটল তৈরি করতে পারে এবং তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
(সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, পলিটিকো — ১৫-১৬ মার্চ ২০২৬)








