
নিজস্ব প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক | ৫ মার্চ, ২০২৬
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ‘বিপ্লব বিরোধী’ কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আমরা ইরাকে অবস্থানরত বিপ্লব বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে নিক্ষেপ করেছি।”
দীর্ঘদিন ধরেই ইরান অভিযোগ করে আসছে যে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া কুর্দি গোষ্ঠীগুলো ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইরান-ইরাক সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগেও ইরান যখন ইরাকের মাটিতে এ ধরনের হামলা চালিয়েছিল, তখন বাগদাদ একে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছিল।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কুর্দি সদর দপ্তরে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন হতাহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিস্ফোরণের শব্দে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইরান এর আগেও বেশ কয়েকবার ড্রোনের মাধ্যমে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কুর্দিস্তান অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেছে। আজকের এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ তেহরানের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।








