
তেহরান, ইরান: ইরানজুড়ে চলমান ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ সামরিক অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (IRCS) জানিয়েছে, হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়িয়ে হামলার পরিধি আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বেসামরিক এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
ইরানি রেড ক্রিসেন্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি সেবা কেন্দ্র। সংস্থাটি দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সামরিক স্থাপনার কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের জানমালের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে।
যুদ্ধনীতির লঙ্ঘন?
আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যে কোনো সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির লড়াইয়ে সাধারণ নাগরিকদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কেবল মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং এটি যুদ্ধের নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। সামরিক স্থাপনা এড়িয়ে কেন বেসামরিক এলাকায় এই হামলা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
২০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শীতকালীন আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। রেড ক্রিসেন্ট বর্তমানে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণে তৎপর থাকলেও হামলার তীব্রতা তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
ইরান সরকার এই ধ্বংসলীলাকে ‘বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।








