
নিজস্ব প্রতিবেদন | রংপুর | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ মার্চ ২০২৬
ইরান যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান কখনোই আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ শুরু করে না, তবে আক্রান্ত হলে তার কড়া জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় লারিজানি ইরানের সামরিক দর্শন ও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
বার্তায় লারিজানি দাবি করেন, গত তিন শতাব্দীতে ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি। তিনি বলেন,
“আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা আত্মরক্ষার নীতিতে বিশ্বাসী। আমরা কখনো আক্রান্ত হওয়া ছাড়া পাল্টা আক্রমণ চালাইনি।”
তিনি ইরানের সামরিক শক্তিকে একটি রক্ষণাত্মক ঢাল হিসেবে উল্লেখ করেন, যা কেবল অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ইরানের সুদীর্ঘ ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লারিজানি বলেন, “যেকোনো মূল্যেই হোক, আমরা আমাদের ভূখণ্ড এবং ছয় হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতাকে রক্ষা করব।” তিনি শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানকে নিয়ে যারা ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ করছে, অচিরেই তাদের নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে লারিজানি একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা বিশ্বের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর চেয়ে ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বা যুদ্ধের জন্য অনেক বেশি সক্ষম এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত। ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং ‘অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান’ দেশটির জাতীয় সংকল্পের অংশ বলে তিনি অভিহিত করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লারিজানির এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মূলত পশ্চিমা শক্তি এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি ইরানের একটি শক্তিশালী কৌশলগত বার্তা।








