
ইরানের ইস্পাত কারখানায় ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) গাল্ফ অঞ্চল ও ইসরায়েলের একাধিক ইস্পাত প্রতিষ্ঠান খালি করার আদেশ জারি করেছে। এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিশোধমূলক অভিযানের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) ইরানের খুজেস্তান স্টিল এবং ইস্ফাহানের মোবারাকেহ স্টিল কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা হয়। এতে উভয় কারখানার বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, অ্যালয় স্টিল প্রোডাকশন লাইন ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন:
এই হামলার জবাবে IRGC-এর পক্ষ থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকান ও জায়োনিস্ট রেজিমের সঙ্গে যুক্ত শিল্প-কারখানার কর্মীদের অবিলম্বে কর্মস্থল খালি করতে হবে, যাতে তাদের জীবন বিপন্ন না হয়।” বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি প্রধান ইস্পাত প্রতিষ্ঠানের নাম:
– কুয়েত সিটির অভ্যন্তরে কুয়েত স্টিল (ইউনাইটেড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশনের সদর দপ্তর)
– সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে EMSTEEL গ্রুপ (ইউনাইটেড আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি)
– ইসরায়েলের আশদোদে ইয়াহুদা স্টিল লিমিটেড
– পূর্ব সৌদি আরবের আল জুবাইল সিটিতে সৌদি আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি (হাদিদ)
– বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরে ফুলাথ হোল্ডিং
আরও পড়ুন:
IRGC-এর এই আদেশকে ‘ট্রু প্রমিস ৪’ অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘আমেরিকান ও ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে গাল্ফের দেশগুলো এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের আদেশ যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষ করে ইস্পাত শিল্প গাল্ফ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ।
আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। IRGC জানিয়েছে, আরও পর্যায়ক্রমিক অভিযান চলবে। বিশ্ববাজারে ইস্পাতের দাম এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
আমাদের নিউজ পোর্টাল এই সংঘাতের সর্বশেষ আপডেট নিয়ে আপনাদের সঙ্গে থাকবে।
(সূত্র: তাসনিম নিউজ, ফার্স নিউজ, আঞ্চলিক গণমাধ্যম)








