
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসানে নতুন করে আলোচনার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য পাঁচটি কঠোর আনুষ্ঠানিক শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত মেনে নিলে সমঝোতার পথ খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধের দাবি নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
মিডলইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে চলমান যুদ্ধ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান এই শর্তগুলো তুলে ধরেছে। চ্যানেল ১২-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের দাবিগুলো অত্যন্ত কঠোর এবং এগুলো মানা না হলে সমঝোতা সম্ভব নয়।
ইরানের পাঁচটি প্রধান শর্ত কী কী?
ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা যায়:
১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা গ্যারান্টি যে ভবিষ্যতে আর কখনো ইরানে আক্রমণ করা হবে না।
২. হরমুজ প্রণালিতে নতুন সমুদ্রবাণিজ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যার ফলে প্রণালিটি কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এবং জাহাজ চলাচল থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।
৩. পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্যে) যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা।
৪. যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সমানুপাতিক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানো এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়াসহ স্টকপাইল সমন্বয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প সোমবার ইরানের সঙ্গে ‘উৎপাদনশীল’ আলোচনার কথা উল্লেখ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট,
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে ‘আরেকটি সুযোগ’ দেওয়ার কথা বললেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যেকোনো সমঝোতায় ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা হবে এবং আক্রমণ অব্যাহত রাখা হবে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এতে আলোচনা জটিল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এই শর্তগুলোকে ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অপরিহার্য দাবি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাব,
যদি এই শর্তগুলো নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমবে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। মিডলইস্ট মনিটরসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, আলোচনা এগোলে আগামী কয়েক দিনে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।
(তথ্যসূত্র: মিডলইস্ট মনিটর, চ্যানেল ১২, ডব্লিউআইওএন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম)








