
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দোহার পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে যদি আঞ্চলিক হামলা বা উস্কানি অব্যাহত থাকে, তবে তেহরানের পক্ষে আর কোনো ধরনের কূটনৈতিক মধ্যস্থতা করা সম্ভব হবে না।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই কাতারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারির পর কাতার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী, তবে একতরফা উস্কানি আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “কাতার সব সময় আলোচনার টেবিলে বিশ্বাসী। কিন্তু যদি ইরানের পক্ষ থেকে সামরিক উস্কানি বা হামলা চলমান থাকে, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আমাদের ভূমিকা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাতারের এই সরে দাঁড়ানোর হুমকি ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হতে পারে, কারণ পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো কাতার।
আরও পড়ুন:
এদিকে কাতারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যথায় তারা চরম আইনি ও সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতার সাধারণত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এবার তাদের এই কঠোর সুর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। যদি কাতার সত্যিই মধ্যস্থতা থেকে সরে যায়, তবে তেহরান আন্তর্জাতিকভাবে আরও একঘরে হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।








