
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। বুধবারের এই ঘটনার পর তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববাসীকে এখন ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার দামে তেল কেনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানের এই সামরিক হুমকির পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা পারস্য উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগন যখন এই অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে ‘সবচেয়ে তীব্র’ বলে দাবি করছে, ঠিক তখনই ইরান পাল্টা হামলার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিল। ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, “তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ তেলের দাম এ অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, যা আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা) নষ্ট করেছেন।”
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের আশেপাশে থাকলেও ইরানের এই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ১ ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার। যদি এক ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার হয়, তবে বর্তমান বিনিময় হার (১ ডলার = ১২২.৫০ টাকা ধরে) অনুযায়ী:
আরও পড়ুন:
অর্থাৎ, প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দামই বাংলাদেশের বাজারে ১৫৪ টাকার বেশি দাঁড়াতে পারে। এর সাথে রিফাইনিং এবং পরিবহন খরচ যুক্ত হলে ভোক্তাপর্যায়ে এই দাম আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (UKMTO) জানিয়েছে, বুধবার তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪টি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। থাইল্যান্ড, জাপান এবং মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজগুলোও এই হামলার তালিকায় রয়েছে।
আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে এই মজুত দিয়েও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা বন্ধ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।








