
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়া পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত ৬টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই ধারাবাহিক হামলার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
হামলার বিস্তারিত তথ্য
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বুধবার (১১ মার্চ) এবং বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই হামলাগুলো চালানো হয়। হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ময়ূরী নারী (Mayuree Naree): থাইল্যান্ডের এই কার্গো জাহাজটি বুধবার হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়। এতে ৩ জন ক্রু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ওয়ান ম্যাজেস্টি (ONE Majesty): জাপানি পতাকাবাহী এই কন্টেইনার জাহাজটি দুবাই উপকূলে হামলার শিকার হয়।
স্টার গোয়াইনেথ (Star Gwyneth): মার্শাল আইল্যান্ডসের এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি দুবাইয়ের অদূরে নোঙর করা অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেফসি বিষ্ণু ও জেফাইরস: ইরাকের বসরা বন্দরের কাছে এই দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ড্রোন বা মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে বলে ইরাকি বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (UKMTO) জানিয়েছে, অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোঁড়া প্রজেক্টাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে।
তেলের বাজারে অস্থিরতা
পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে জাহাজ চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বুধবার রাত থেকেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০.২৫ ডলারে পৌঁছায়। এছাড়া মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড অয়েলের দামও ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৪ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। গত কয়েকদিনের অস্থিরতায় তেলের বাজারে এই উল্লম্ফন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা জাগিয়ে তুলছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। যার মধ্যে একা যুক্তরাষ্ট্রই ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের কারণে এই নৌ-পথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ১২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:








