
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে ইসরায়েলে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আইডিএফ-এর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শনাক্ত করার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজানো হচ্ছে। তেল আবিব এবং জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোর বাসিন্দাদের অবিলম্বে বোমা নিরোধক আশ্রয়কেন্দ্রে (Bunker) অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অ্যারো (Arrow) এবং ডেভিডস স্লিং (David’s Sling) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইসরায়েল যদি পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে পরবর্তী হামলা হবে আরও বিধ্বংসী।
এই হামলার পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র দেশগুলো আকাশপথে আসা এই হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলকে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, জর্ডান এবং ইরাক তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সরাসরি সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, যারা ইসরায়েলকে আঘাত করবে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।








