
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর তীব্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির সর্বশেষ রিপোর্ট অনুসারে, সাম্প্রতিক হামলায় শ্রীফা (Srifa)সহ একাধিক এলাকায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) ভোরে শ্রীফার কাছাকাছি এলাকাসহ আল-শাবিয়া, মাজদাল সেলম এবং আল-হানিয়া (টায়ার জেলা)-তে পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়। এতে একটি ভবন, একটি মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। ফলে তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। লেবানন কর্তৃপক্ষের মতে, নিহতরা বেসামরিক নাগরিক।
এছাড়া নাকুরা, হামুল ও আল-বায়াসা এলাকায় ফসফরাস বোমা নিক্ষেপের খবরও পাওয়া গেছে, যা বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী এসব হামলাকে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে বর্ণনা করলেও, স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বেসামরিক ঘরবাড়ি ও যানবাহনই মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মার্চ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ১০২৯ ছাড়িয়েছে
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০২৯ জন নিহত এবং ২৭৮৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলছে। শ্রীফায় আগের একটি হামলায়ও একজন নিহত হয়েছিলেন বলে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলার কারণে শত শত পরিবার ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স টিমগুলো ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
নভেম্বর ২০২৪-এর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে লেবানন সরকার অভিযোগ করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব হামলার জবাবে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় রকেট হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, এ সংঘাত আরও তীব্র হলে লেবাননে বড় ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।
আপডেট: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে আপডেট দেওয়া হবে।
(সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, লেবানন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি, ২৩ মার্চ ২০২৬)








