
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইরানের সাথে ‘খুব ভালো ও উৎপাদনশীল আলোচনা’ হয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ‘সম্পূর্ণ ও মোট সমাধান’ আনতে পারে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে যেকোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তেহরান এই আলোচনার অস্তিত্ব পুরোপুরি অস্বীকার করেছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা খবর’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সব অক্ষরে লিখে জানিয়েছেন, “আমরা ইরানের সাথে খুব ভালো ও উৎপাদনশীল আলোচনা করেছি যা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতার সম্পূর্ণ ও মোট সমাধান আনতে পারে।” তিনি আরও বলেন, আলোচনা সারা সপ্তাহ চলবে এবং হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত “চলমান বৈঠকের সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল”। এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন—হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে সব জ্বালানি স্থাপনা ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। সেই সময়সীমা সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জারেড কুশনার রবিবার এক ‘সম্মানিত’ ইরানি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ইরানের তীব্র অস্বীকার:
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর, ফার্স, তাসনিম ও আইআরআইএনএর খবরে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি এবং চলছেও না।” ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ এক্স-এ লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটা শুধু আর্থিক ও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলার জন্য মিথ্যা খবর।” ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ‘পশ্চাদপসরণ’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রেক্ষাপট ও প্রভাব:
এই ঘটনা চার সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের মধ্যে ঘটেছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে—যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। এতে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের স্থগিত ঘোষণার পরই তেলের দাম কমেছে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের বিপ্লবী গার্ড আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে গাল্ফ অঞ্চলের পাওয়ার প্ল্যান্ট, ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুদ্ধের অবসানের দিকে একটা ছোট ধাপ হতে পারে, কিন্তু ইরানের অস্বীকৃতির কারণে আলোচনার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। পরবর্তী পাঁচ দিনের ঘটনা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
(আন্তর্জাতিক সংবাদ সূত্র: এপি, রয়টার্স, ব্লুমবার্গ ও ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া)








