
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে অবশেষে কঠোর প্রতিশোধ নিল ইরান। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) শনিবার রাতে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় ঢেউ পাঠায়। এই হামলায় প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ‘Sejjil’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে ।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরানের ‘True Promise 4’ অভিযানের ৫৪তম ধাপ সম্পন্ন হলো। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইয়া জাহরা’ (স. আ.) কোডনামে পরিচালিত এই অভিযানে শুধু সেইজিল নয়, বরং দুই টন ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম ‘Khorramshahr’, ‘Kheibar Shekan’, ‘Qadr’ এবং ‘Emad’ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে ।
আরও পড়ুন:
সেইজিল ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব
Sejjil মিসাইলকে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল আর্সেনালের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কৌশলগত অস্ত্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি সলিড-ফুয়েল (কঠিন জ্বালানি) সমৃদ্ধ ।
দ্রুত নিক্ষেপ ও শনাক্তকরণে বাধা: সলিড-ফুয়েল মিসাইল দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং তরল জ্বালানি মিসাইলের মতো উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ সময় জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয় না। এটি মোবাইল লঞ্চার থেকে ছোঁড়া যায়, ফলে শত্রুপক্ষের জন্য এটি শনাক্ত করা এবং ধ্বংস করা অনেক কঠিন ।
আরও পড়ুন:
সীমাহীন পাল্লা: এই দুই-পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ।
গতি ও ক্ষয়ক্ষতি: ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নাতানজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে এই মিসাইল মাত্র সাত মিনিটে তেল আবিবে পৌঁছাতে সক্ষম । এটি পুনরায় বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ম্যাক ১২ থেকে ১৪ গতি বেগে চলতে পারে, যা ইসরায়েলের আয়রন ডোমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের অ্যারো ২ এবং অ্যারো ৩ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজে লাগে ।
ওয়ারহেড সক্ষমতা: পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, ২৩ টন ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫০০ থেকে ১,৫০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম ।
লক্ষ্যবস্তু ও প্রতিক্রিয়া
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সামরিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলি সেনা ঘাঁটি । ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি জানিয়েছে, হামলার পর ইসরায়েলের তেল আবিব, রামাত গান, হারজেলিয়াসহ অন্তত ১৪১টি এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে ।
পটভূমি: ক্রমবর্ধমান সংঘাত
এই হামলার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইরানের ভূখণ্ডে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির মৃত্যুসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে খবর প্রকাশিত হয় । এর জবাবে ইরান স্ট্রেইট অব হরমুজ বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দেয় ।
আরও পড়ুন:
বর্তমান পরিস্থিতি
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলার পর ইসরায়েল পশ্চিম ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে আপাতত অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল টার্মিনালে হামলার হুমকি দিয়েছেন ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) এই সংঘাতের প্রভাব এড়াতে পারেনি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ।
বিশ্লেষকদের মতে, Sejjil-এর মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধে নামানো প্রমাণ করে যে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ এখনও মজুত রেখেছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে ।








