
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরাক আবারও পরিণত হয়েছে এক জটিল রণক্ষেত্রে। ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মার্কিন সেনাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধের “প্রক্সি ফ্রন্ট” হিসেবে ইরাকের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।
আরো পড়ুন:
হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা:
সম্প্রতি রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, একাধিক ড্রোন ও রকেট ছোঁড়া হয়, যার কিছু প্রতিহত করা হলেও অন্তত একটি দূতাবাস চত্বরে আঘাত হানে।
আরো পড়ুন:
এছাড়া ১৮ মার্চ নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযান:
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত কয়েক ডজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন বাহিনী বলছে, এসব অভিযান মূলত তাদের সেনা ও স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা:
ইরাকে সক্রিয় “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক”সহ বিভিন্ন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা একাধিক ড্রোন হামলার দায় স্বীকারও করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব গোষ্ঠী মূলত ইরানের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে কাজ করছে।
আরো পড়ুন:
বৃহত্তর যুদ্ধের প্রভাব:
এই সংঘর্ষ মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরানের বৃহত্তর সংঘাতের অংশ। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকেই ইরাকে সহিংসতা বাড়তে থাকে।
এতে করে ইরাক কার্যত দুই পক্ষের লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে গেছে
একদিকে মার্কিন বাহিনী
অন্যদিকে ইরানপন্থি মিলিশিয়া
রাজনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি:
ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। শক্তিশালী মিলিশিয়াদের দমন করতে সরকারের সীমিত ক্ষমতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আরো পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে ইরাকের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।








