
তেহরান, ১৪ মার্চ ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানে আরও তীব্র হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন ১৫তম দিনে পৌঁছেছে। মার্কিন B-2 স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের হার্ডেন্ড আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সুবিধায় ২,০০০ পাউন্ড বোমা ফেলে হামলা চালিয়েছে, যা পেন্টাগনের Operation Epic Fury-এর অংশ। একইসঙ্গে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ আল-কুদস দিবসের বিশাল র্যালির কাছে “huge blasts” রিপোর্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৭,৬০০টি স্ট্রাইক ও লেবাননে ১,১০০টি হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিকতম হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেল সুবিধা এখনো অক্ষত রাখা হয়েছে “decency”-র কারণে, তবে স্ট্রেইট অব হরমুজে হস্তক্ষেপ করলে তা লক্ষ্যবস্তু হবে।
B-2 স্টিলথ বোমারু বিমানের ভূমিকা
আরও পড়ুন:
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে, B-2 স্পিরিট বোমারু বিমানগুলো ইরানের গভীরে অবস্থিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সুবিধায় দীর্ঘপাল্লার হামলা চালিয়েছে। এই বিমানগুলো মিসৌরির হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেস থেকে উড়ে এসেছে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কেভগুলোকে লক্ষ্য করে ২,০০০ পাউন্ড বোমা ফেলেছে। এটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখনো অভিযানে সক্রিয় রয়েছে।
তেহরানে চলমান হামলা
ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বড় বিস্ফোরণ হয়েছে। হাজারো মানুষ আল-কুদস দিবসের র্যালিতে জড়ো হয়েছিলেন। ইসরায়েল আগেই ওই এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তেহরানের পাশাপাশি লেবাননের বৈরুতে ও ইরানের অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইসরায়েল ও হেজবোল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে মিসাইল-ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া
আরও পড়ুন:
ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত ও ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছে। লেবাননে আরও ৭৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই (আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর) প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, “We know the new so-called, not-so-supreme leader is wounded and likely disfigured” এবং “no quarter, no mercy” দেখানো হবে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
স্ট্রেইট অব হরমুজ বন্ধ থাকায় তেলের দাম ৪০% বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাহরাইন ও সৌদি আরবে F1 রেস বাতিল হয়েছে। জাতিসংঘ ও আরব দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এখনো অস্থির। ইউএস সেন্টকম আরও ১০,০০০ ইন্টারসেপ্টর ড্রোন মোতায়েন করছে। পরিস্থিতি মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তনশীল। আমাদের নিউজ পোর্টালে লাইভ আপডেট চালু রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
(সূত্র: Al Jazeera, Reuters, CENTCOM, CNN — সর্বশেষ আপডেট ১৪ মার্চ ২০২৬)








