
নিজস্ব প্রতিবেদন | রংপুর | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। সোমবার (২ মার্চ) বর্তমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কয়েক দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এবারের হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক ও কৌশলগত প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোকে, যার মধ্যে বীরশেবা (Be’er Sheva) শহরের মাইক্রোসফট কার্যালয় সংবলিত কমপ্লেক্সটি সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এটি তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযানের ১১তম ঢেউ। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের হামলায় বীরশেবা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই কমপ্লেক্সটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়, বরং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ও সাইবার যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তাসনিম নিউজের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, বীরশেবার সেই ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেখানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট-সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানির আঞ্চলিক দপ্তর অবস্থিত।
লক্ষ্যবস্তু কেন বীরশেবা?
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীরশেবা মূলত দেশটির ‘সাইবার ক্যাপিটাল’ হিসেবে পরিচিত। এখানে অবস্থিত ‘গাভ-ইয়াম নেগেভ অ্যাডভান্সড টেকনোলজিস পার্ক’-এ মাইক্রোসফট, গুগল এবং ওরাকলের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর অফিস রয়েছে। ইরানের দাবি, ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সক্ষমতা পঙ্গু করে দিতেই তারা এই বিশেষ স্থাপনাটি বেছে নিয়েছে।
হামলার পর ওই এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরানি পক্ষ থেকে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করা হলেও, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বা মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার পর বীরশেবা শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং সাইরেন বাজিয়ে স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতামত:
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি কোনো গ্লোবাল টেক জায়ান্টের কার্যালয় থাকা ভবনে হামলার ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যদি মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং ডেটা নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।








