
ইরানের একের পর এক ব্যালেস্টিক মিসাইল বর্ষণের মধ্যেই ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে নতুন করে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে লেবানন ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হিজবুল্লাহর অন্তত তিনটি রকেট বহর উত্তর ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন:
রকেট বৃষ্টিতে কাঁপছে হাইফা ও কিরিয়াত শোমনা
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও আইডিএফ (IDF)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেবানন থেকে অন্তত ১০০টি রকেট একত্রে নিক্ষেপ করা হয়েছে। উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরিয়াত শোমনা (Kiryat Shmona) এবং বন্দর নগরী হাইফাতে (Haifa) মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গোটা এলাকা জুড়ে বাজছে বিমান হামলার সাইরেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর অঞ্চলের সকল নাগরিকদের অবিলম্বে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে (Shelter) যাওয়ার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ (True Promise 4)-এর অংশ হিসেবেই হিজবুল্লাহ এই হামলা চালাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে ইরান তার ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল দিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে। ঠিক সেই সময় হিজবুল্লাহর এই রকেট হামলা ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:
মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি
লেবানন সীমান্তের সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে ক্রমাগত রকেট লাঞ্চার ব্যবহার করছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে তারা তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীও লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলে হিজবুল্লাহর গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের অন্তত ৩৭টি মিসাইল বহর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে হতাহতের কোনো সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।








