
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—এর প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ-এর বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ অবস্থায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সন্ধ্যা ৭টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমানো যায়।
আরও পড়ুন:
গত শনিবার (৪ এপ্রিল) সরকারি ছুটির দিনে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। দিনের বেলায় প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং থাকলেও রাতে তা এক পর্যায়ে ১০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা-র তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি বলে জানা গেছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং আমদানি পরিস্থিতি উন্নত না হলে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।






