
ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা চলছে। তবু চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম রয়েছে পুরোদমে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে মোট ২৫টি জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন:
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মধ্যে ছয়টি এলএনজি, ছয়টি এলপিজি, পাঁচটি গ্যাস অয়েল, চারটি এইচএসএফও, দুটি বেস অয়েলসহ ক্রুড অয়েল ও এমইজি বোঝাই জাহাজ রয়েছে। এগুলো এসেছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। বর্তমানে ওমান থেকে আসা ‘এলপিজি সেভান’ জাহাজে এলপিজি খালাস চলছে। থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে ‘এবি অলিভিয়া’ বহির্নোঙরে অপেক্ষায়। আরও দুটি জাহাজ ‘বিক বরনহোম’ ও ‘মর্নিং জেইন’ ২৫ মার্চের মধ্যে পৌঁছানোর কথা।
অথচ দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে চলছে তেলের হাহাকার। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘ লাইন, কোথাও সাইনবোর্ডে ঝুলছে ‘তেল নেই’। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রোববার রাতে ফেসবুক পোস্টে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠন বলছে, “সারাদেশের পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। অয়েল কোম্পানি থেকে যে তেল পাচ্ছি, তা দিয়ে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। নজেলম্যানরা ক্রেতাদের সঙ্গে গন্ডগোলে জড়িয়ে পড়ছেন। নিরাপত্তা ও তেল সরবরাহ না পেলে যেকোনো সময় সারাদেশের পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
আরও পড়ুন:
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ অব্যাহত। আগের রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে পাম্প মালিকরা জানাচ্ছেন, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার আটকে আছে। ফলে নতুন করে তেল তুলতে পারছেন না অনেকে।
জনমনে প্রশ্ন উঠছে – বন্দরে এত জাহাজের জ্বালানি খালাস হচ্ছে, তাহলে পাম্পে তেল নেই কেন? অনেকে অভিযোগ করছেন, পাম্প মালিকদের কাছে স্টক থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ‘সিন্ডিকেটের’ খেলা চলছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। পাম্প মালিকরা অবশ্য বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি ও নিরাপত্তার অভাবই মূল সমস্যা।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের চাপ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা বড় সাফল্য। তবে ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত বিতরণ ব্যবস্থা আরও দ্রুত করতে হবে। সরকারের উচিত পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পগুলো চালু রাখা এবং যেকোনো অনিয়মের তদন্ত করা।
আরও দুটি জাহাজ আসছে। আশা করা যায়, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পাম্পের লাইন কমবে। তবে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ চাই।
(সূত্র: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও সরকারি বক্তব্য – ২৩ মার্চ ২০২৬)








