
সুদানের চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সুদানী সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র জয়েন্ট ফোর্সের একটি বড় অভিযান। দেশটির উত্তর দারফুরের এল ফাশার অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা বাহিনী (Rapid Support Forces বা RSF)-এর উদ্দেশ্যে পাঠানো গোলাবারুদের একটি চালান জব্দ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, বাক্সগুলোর গায়ে থাকা মার্কিং ও ডকুমেন্টস থেকে স্পষ্ট যে এগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) থেকে এসেছে।
আরও পড়ুন:
নভেম্বর ২০২৪-এ জব্দকৃত এই অস্ত্রের বাক্সগুলোতে ৮১ মিলিমিটার মর্টার শেলসহ বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ছিল। স্থানীয় জয়েন্ট ফোর্সের সদস্যরা ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, এসব অস্ত্র RSF-এর হাতে পৌঁছালে দারফুরে তাদের সহিংস অভিযান আরও তীব্র হতো। RSF-কে ঐতিহ্যগতভাবে জানজাওয়িদ মিলিশিয়ার উত্তরসূরি বলে মনে করা হয় এবং তারা বর্তমানে সুদান সেনাবাহিনীর (SAF) বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
একই সঙ্গে এল ফাশারে RSF-এর ভূমিকা নিয়ে উঠে এসেছে গুরুতর অভিযোগ। অক্টোবর ২০২৫-এ শহরটি দখলের পর RSF সদস্যরা UAE-নির্মিত ‘নিমর’ (Nimr) পিকআপ ও অর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার ব্যবহার করে হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। সৌদি ম্যাটার্নিটি হাসপাতালসহ একাধিক চিকিৎসাকেন্দ্রে তারা রোগী, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর নির্মম হামলা চালায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, একটি হাসপাতালেই অন্তত ৪৬০ জন নিহত হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, RSF যোদ্ধারা ‘ঠান্ডা মাথায়’ সবাইকে হত্যা করেছে।
আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, UAE থেকে RSF-কে অস্ত্র, ড্রোন, গাড়ি ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চাদ, লিবিয়া ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক হয়ে এসব সরবরাহ চলছে বলে অভিযোগ। ইউএন প্যানেল অব এক্সপার্টসও এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তবে UAE বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং বলছে, তারা কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করছে না।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। ইরানের সুদান সেনাবাহিনীকে সমর্থনের অভিযোগে যেভাবে সমালোচনা হয়, ইউএই-এর বিরুদ্ধে একই রকম জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ UAE-এর সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও ইউএন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
সুদানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত লাখাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত। এল ফাশারের পতনের পর দারফুরে গণহত্যা ও যৌন সহিংসতার খবর আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা যুদ্ধবাজদের আরও উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুদানের এই সংকট নিয়ে আরও আপডেটের জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হোন।
(তথ্যসূত্র: সুদান ট্রিবিউন, রয়টার্স, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিবিসি, ডব্লিউএইচও ও ইউএন প্রতিবেদন)
আরও পড়ুন:








