
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, তারা আরব সাগরে অবস্থানরত এই রণতরী এবং লোহিত সাগরে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে।
আরও পড়ুন:
হুতিদের দাবি:
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন রণতরীটি যখন ইয়েমেনের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই তারা এই অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি দাবি করেন, তাদের এই আট ঘণ্টার অভিযানে আব্রাহাম লিংকন রণতরী এবং দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলাটি ফিলিস্তিনের গাজা এবং লেবাননের জনগণের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ হিসেবে চালানো হয়েছে বলে তারা জানান।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও সত্যতা যাচাই:
হুতিদের এই দাবির পরপরই পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার জানিয়েছেন, হুতিরা অন্তত আটটি ড্রোন, পাঁচটি জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সফলতার সাথে সেই হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বা অন্য কোনো ডেস্ট্রয়ারের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কোনো মার্কিন সেনাও আহত হননি। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, হুতিদের ছোড়া কোনো অস্ত্রই তাদের রণতরী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
বর্তমান প্রেক্ষাপট:
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে সরাসরি টার্গেট করা হুতিদের সক্ষমতার একটি বড় প্রদর্শন। যদিও পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে লোহিত সাগরে হুতিদের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়ে তাদের শক্তি খর্ব করার চেষ্টা করছে। তবে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি দমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।








